Published : 04 Aug 2026, 03:16 PM
বিজ্ঞান পাঠ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলী – অধ্যায় ৩ প্রশ্ন: ইমবাইবেশন বলতে কী বোঝায়? উত্তর: অধিকাংশ কলয়েডধর্মী পদার্থই পানি আকর্ষণ করে। উদ্ভিদ দেহের মধ্যে স্টার্চ, সেলুলোজ, জিলেটিন ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের কলয়েড বিদ্যমান। এই পদার্থগুলো তাদের কলয়েড বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে পানি শোষণ করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় কলয়েডধর্মী উপাদানগুলো কীভাবে তরল পদার্থ শোষণ করে, তাকেই ইমবাইবেশন বলা হয়। প্রশ্ন: ফুলের সুবাস বাতাসে কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে? উত্তর: ফুলের মিষ্টি সুগন্ধ বাতাসে ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাপন প্রক্রিয়ায় তরল ও গ্যাসীয় অণুগুলো ঘনত্বের বেশি স্থান থেকে কম ঘনত্বের স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। যেহেতু ফুলের সুবাসের ঘনত্ব তার আশেপাশে বেশি থাকে, তাই এটি ব্যাপনের মাধ্যমে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং আমরা তা অনুভব করি। প্রশ্ন: শুকনা কিশমিশ পানিতে ফুলে ওঠে কেন? উত্তর:এটি অন্তঃঅভিস্রবণের (Osmosis) প্রক্রিয়ার ফল।
কিশমিশের অভ্যন্তরে কোষরস ঘন দ্রবণ রূপে থাকে এবং কোষপর্দা অর্ধভেদ্য। ফলে বাইরের পাতলা দ্রবণের কারণে পানি অভিস্রবণের মাধ্যমে ভেতরের ঘন দ্রবণে প্রবেশ করে, যার ফলে কিশমিশ ফুলে ওঠে। আরও পড়ুন: পরীক্ষা নয়, এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রশ্ন: ‘প্রস্বেদনকে Necessary evil বলা হয় কেন’— ব্যাখ্যা করো। উত্তর:উদ্ভিদের জীবনধারণের জন্য প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে প্রচুর পরিমাণে জল বাষ্পাকারে নির্গত করে। অতিরিক্ত জল হারানোর ফলে উদ্ভিদের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে, তাই আপাতদৃষ্টিতে এটি ক্ষতিকর মনে হলেও, প্রস্বেদন উদ্ভিদকে অতিরিক্ত জলের চাপ থেকে মুক্ত রাখে। এই কারণেই প্রস্বেদনকে উদ্ভিদের জন্য একটি ‘প্রয়োজনীয় ক্ষতি’ (Necessary evil) হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রশ্ন: পলিথিনকে কেন অভেদ্য পর্দা বলা হয়? উত্তর:যে পর্দা দিয়ে দ্রাবক এবং দ্রব উভয় প্রকার পদার্থের অণু চলাচল করতে পারে না, তাকে অভেদ্য পর্দা বলে।
পলিথিনের মধ্য দিয়ে কোনো দ্রাবক বা দ্রবণের অণু প্রবেশ করতে পারে না, তাই এটিকে অভেদ্য পর্দা বলা হয়। প্রশ্ন: মাছের পটকাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলা হয় কেন? উত্তর:যে পর্দা দিয়ে কেবল দ্রবণের দ্রাবক অণু (যেমন পানি) চলাচল করতে পারে, কিন্তু দ্রবণের কণাগুলো চলাচল করতে পারে না, তাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলে। মাছের পটকার কোষপর্দা শুধুমাত্র পানির মতো দ্রাবক অণু চলাচল করতে দেয়, কিন্তু দ্রবণের কণা চলাচল করতে বাধা দেয়। প্রশ্ন: ‘শুকনা কাঠ পানিগ্রাহী’—ব্যাখ্যা করো। উত্তর:শুকনা কাঠ মূলত সেলুলোজ জাতীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত। যেহেতু সেলুলোজ কলয়েডধর্মী পদার্থের অন্তর্ভুক্ত, এবং অধিকাংশ কলয়েডধর্মী পদার্থই পানি শোষণ করে, তাই শুকনা কাঠে পানির ঘাটতি পূরণের জন্য ইমবাইবেশন প্রক্রিয়ায় জল শোষণ করার ক্ষমতা থাকে। এই কারণে শুকনা কাঠ পানিগ্রাহী বলে পরিচিত।।